কম চাহিদা ও পর্যাপ্ত সরবরাহ

এশিয়ার স্পট মার্কেটে স্থিতিশীল এলএনজির দাম

এশিয়ার স্পট মার্কেটে ২০২৫ সালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম কমেছে ৩৪ শতাংশ।

এশিয়ার স্পট মার্কেটে ২০২৫ সালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম কমেছে ৩৪ শতাংশ। নিম্নমুখী চাহিদা ও পর্যাপ্ত সরবরাহের প্রভাবে এ বছরের শুরুতেও এ ধারা বজায় রয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের চুক্তিতে গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ৯ ডলার ৬০ সেন্ট, যা আগের সপ্তাহের সমান। খবর রয়টার্স ও মেরিনলিঙ্ক।

কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান এফজিইর ডিরেক্টর ফর গ্যাস অ্যান্ড এলএনজি সাপ্লাই অ্যানালিটিকস সিয়ামাক আদিবি বলেন, ‘‌এলএনজির বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল। এলএনজি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিপোর্ট এলএনজিতে উৎপাদন বিঘ্ন সত্ত্বেও গত ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাপী পণ্যটির সরবরাহ ৪ কোটি ২০ লাখ টনের রেকর্ড ছুঁয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌এশিয়ায় নিম্নমুখী চাহিদার কারণে ইউরোপের দেশগুলো তুলনামূলক কম দামে এলএনজি সংগ্রহ করতে পারছে।’

রাইস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মাসানোরি ওদাকা বলেন, ‘‌বছর শেষের ছুটির মৌসুমের প্রভাবে লেনদেন কার্যক্রম কমে গেছে। পাশাপাশি এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার বহু শহরে স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানুয়ারির শুরুতে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে।’

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এশিয়ায় এলএনজি পাঠানোর আর্বিট্রেজ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের বেশির ভাগ সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি ইউরোপমুখী হতে পারে। পরিস্থিতি বদলাতে হলে ইউরোপের তুলনায় এশিয়ায় পণ্যটির দাম অন্তত প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ১ ডলার বাড়তে হবে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস জানিয়েছে, নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) আদর্শে ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে সরবরাহের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ৯ ডলার ১১ সেন্ট। এটি টিটিএফের (নেদারল্যান্ডসের একটি ভার্চুয়াল গ্যাস ট্রেডিং হাব) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তি মূল্যের তুলনায় ৫৪ সেন্ট কম।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের ব্যবস্থাপক অ্যালি ব্লেকওয়ে বলেন, ‘‌‌‌তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া ও ডিসেম্বরে মজুদ থেকে উত্তোলনের গতি ধীর হওয়ায় এখন বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা বা সরবরাহ সংকট তৈরি হয়নি। তবে এবারের শীতের মৌসুমে ইউরোপের দেশগুলোয় এলএনজির মজুদ তুলনামূলক কম। ভারসাম্য বজায় রাখতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সমুদ্রপথে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি আমদানির প্রয়োজন হবে।

এদিকে গত সপ্তাহে আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজি পরিবহন ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৭১ হাজার ৭৫০ ডলারে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা নেমেছে দৈনিক ৫৫ হাজার ডলারে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে উত্তমাশা অন্তরীপ অথবা পানামা খাল উভয় পথেই উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় এলএনজি পাঠানোর আর্বিট্রেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপই বৈশ্বিক এলএনজির প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠছে।

আরও